নিউজ ডেস্ক: শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতি, অতিরিক্ত বিল এবং অভব্য আচরণের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। পৃথক চারটি ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে দেরির কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
প্রথম ঘটনাটি তারাতলার এক বেসরকারি হাসপাতালের। ৫৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি পেটের সমস্যা নিয়ে সেখানে ভর্তি হলেও অভিযোগ, তাঁকে সঠিক সময়ে শল্য চিকিৎসক দেখেননি। মেডিসিন বিভাগের অধীনে দীর্ঘ চার দিন ফেলে রাখার পর তাঁর অস্ত্রোপচার হয়, যার পরেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেরিই প্রাণঘাতী হয়েছে। ফলস্বরূপ, হাসপাতালকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, ৬০ বছর বয়সি এক মহিলার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সঙ্কটজনক রোগীর চিকিৎসা চলছিল।
পাশাপাশি, ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও জোড়া শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে। এক রোগীর পরিবারের অভিযোগ, মাত্র দু’দিন ভর্তিতেই বিল করা হয়েছিল ৬ লক্ষ টাকার বেশি। এমনকি মৃত্যুর পর দেহ ছাড়তেও ১২ ঘণ্টা দেরি করা হয়। কমিশন ওই অতিরিক্ত বিলের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্য একটি নজিরবিহীন ঘটনায়, গলায় কাঁটা বিঁধে যাওয়া এক শিশুকে চড় মারার অভিযোগে এক চিকিৎসককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে শিশুর মায়ের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন।