নিউজ ডেস্ক: গুজব আর আতঙ্কের সাঁড়াশি চাপে কার্যত স্তব্ধ হতে বসেছে পঠনপাঠন। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং জনমানস থেকে ভয় দূর করতে এবার খোদ পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তুলসীহাটা চক্রের কাপাইচণ্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ এখন এলাকায় চর্চার বিষয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা দুই শতাধিক। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে হাজিরা খাতায় দেখা দিচ্ছে বড়সড় ঘাটতি। কারণ একটাই— এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘ছেলেধরা’ গুজব। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মইনুল হক জানান, সীমানা প্রাচীরহীন এই স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অভিভাবকরা। এমনকি স্কুলে সচেতনতা সভায় ডাকলেও আতঙ্কে অনেকে আসতে চাইছিলেন না। তাই শিক্ষকদের নিয়ে নিজেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষকদের বার্তা একটাই— গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটির পর দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। শিক্ষকদের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তুলসীহাটা চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তৌফিক আহমেদ। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি অনুপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আতঙ্ক নিছকই গুজব। পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারেন।