নিউজ ডেস্ক: ভোটের ময়দানে ‘কর্তব্যে গাফিলতি’ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। হিঙ্গলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হলো। অভিযোগ, টাকা বিলি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়া দুই বিজেপি নেতাকে নিয়ম ভেঙে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করে কমিশনকে রিপোর্ট দেওয়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: হিঙ্গলগঞ্জ থানা এলাকায় টাকা বিলি করার সময় অসমের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কিশোর নাথ এবং তরুণ মণ্ডলকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের আটক করা হলেও, রহস্যজনকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়। এই ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ পৌঁছায়।
কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিশন নিশ্চিত হয় যে, ওসির এই সিদ্ধান্ত নিয়মবিরুদ্ধ ছিল। এরপরই সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ১১টার মধ্যে এই সাসপেনশন অর্ডার কার্যকর করে কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই থানায় নতুন ওসির দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তার জন্য নবান্নের কাছে দ্রুত তিনজনের নামের তালিকাও চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: নির্বাচনের ঠিক মুখে একজন ওসির সাসপেনশন ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশের একাংশ এখনও শাসক বা বিরোধী কোনও না কোনও পক্ষের হয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। হিঙ্গলগঞ্জের এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কোনও রকম আপস করা হবে না। এই কড়া বার্তা রাজ্যের অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের জন্যও বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।