নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা শিবিরের ভেতরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। হিঙ্গলগঞ্জের বাঁকড়া এলাকায় ৭৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ ক্যাম্পে বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল এক জওয়ানের। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত এলাকায়। মৃত জওয়ানের নাম জ্যোতিরাম সিং (৫৬)। তিনি ওই ব্যাটালিয়নে এএসআই (ASI) পদে কর্মরত ছিলেন।
বিএসএফ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছামতী নদী সংলগ্ন ওই সীমান্ত চৌকিতে (BOP) প্রহরার কাজে ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু স্পিডবোট রাখা থাকে। এদিন সকালে জ্বালানি মজুত রাখার ঘর থেকে স্পিডবোটে তেল ভরার কাজ চালাচ্ছিলেন জওয়ানরা। সেই সময় আচমকাই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় গোটা ঘরটিকে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কর্মরত অন্যান্য জওয়ানরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারলেও, আগুনের গোলার মধ্যে আটকে পড়েন জ্যোতিরাম সিং। ১৯০০ সাল থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে কর্তব্যরত এই অভিজ্ঞ আধিকারিক নিজেকে বাঁচানোর সামান্য সুযোগটুকুও পাননি।
বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কাছে যাওয়ার সাহস পাননি কেউ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গুরুতর দগ্ধ হন জ্যোতিরাম। উদ্ধার করে তাঁকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে জ্বালানি তেল ভরার সময় সুরক্ষাবিধিতে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সীমান্ত এলাকায় এমন একটি সুরক্ষিত ক্যাম্পে কী করে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দমকল এবং বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছেন। জ্যোতিরাম সিং-এর এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর সহকর্মী ও পরিবারে। বিএসএফের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া না হলেও, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।