নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৈধ নাগরিক হওয়ার সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে নাম। এই অপমানে এবং ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এ যাওয়ার আতঙ্কে সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে এই মর্মান্তিক আবেদন জমা দেন সুমিতাভ মুখোপাধ্যায় নামে ওই যুবক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যমগ্রাম-সহ গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়া বাবুপাড়ার বাসিন্দা সুমিতাভ মুখোপাধ্যায় ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু এবারের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘ডিলিটেড’ বা বাতিল হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুমিতাভবাবুর দাবি, এসআইআর (SIR) চলাকালীন তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন। এমনকি ৫ জানুয়ারি নোটিস পেয়ে শুনানিতেও হাজির হয়েছিলেন। খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুমিতাভবাবুর বাবা স্বপন মুখোপাধ্যায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্মী। তাঁর মা শ্বাশতী মুখোপাধ্যায় এবং স্ত্রী মালা মুখোপাধ্যায়ের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থাকলেও, পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে সুমিতাভর নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারতের বৈধ নাগরিক হয়েও যদি ভোট দিতে না পারি, তবে তার থেকে বড় ব্যর্থতা আর কিছু নেই। আমাকে যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়, তবে আমার পরিবার শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাকে সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক।’’
এই ঘটনা সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একজন নিয়মিত ভোটার এবং প্রাক্তন সেনা কর্মীর ছেলের নাম কীভাবে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই নিজের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার শেষ চেষ্টাটুকু করবেন ওই যুবক।