নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুনের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাত ১১টা নাগাদ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ (RAF) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গুলিবিদ্ধ চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর চালককে মধ্যমগ্রামের ভিভাসিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং অর্জুন সিং। নিজের ছায়াসঙ্গীকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বাইরে এবং যশোর রোড চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে, যা এক সময় রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
বারাসত পুলিশ জেলার এসপি পুষ্পা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা হাসপাতালে পৌঁছেছেন। সূত্রের খবর, এই হাই-প্রোফাইল খুনের তদন্তভার নিতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে সিআইডি (CID) এবং এসটিএফ (STF)-এর বিশেষ দল। সিআরপিএফ-এর ডিজি-ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে গোটা যশোর রোড অবরুদ্ধ থাকায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিশাল দল টহল দিচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড ভোট পরবর্তী হিংসার আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।