নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে, অর্থাৎ খাতায়-কলমে তাঁরা এ বার ব্রাত্য। অথচ সেই বাদ পড়া নামগুলোই নির্বাচন কমিশনের খাতায় এখন ‘ভোটের কাণ্ডারি’! গণতন্ত্রের এই অদ্ভুত পরিহাসের সাক্ষী থাকল নদিয়ার কল্যাণী। ভোটার তালিকায় নাম ‘ডিলিটেড’ হওয়া সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনে ভোট পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে এক শিক্ষক দম্পতিকে। এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি কল্যাণীর সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী তনুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সপ্তর্ষিবাবু আমডাঙা হাইস্কুলের শিক্ষক এবং তনুমিতাদেবী হরিণঘাটার জাগুলির রাজলক্ষ্মী কন্যা বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা। অভিযোগ, এসআইআর (SIR) তদন্তের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই দম্পতির নাম ‘বাতিল’ বলে দেখানো হয়েছে। অথচ কমিশনের নিয়োগপত্র বলছে, সপ্তর্ষিবাবু এ বার প্রিসাইডিং অফিসার এবং তনুমিতাদেবী ফার্স্ট পোলিং অফিসার। ইতিমধ্য়েই তাঁরা দু’দফার প্রশিক্ষণও শেষ করেছেন। নিজেদের ভোটাধিকার যেখানে নেই, সেখানে অন্যদের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া তাঁরা কীভাবে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
হতাশ সপ্তর্ষিবাবুর কথায়, ‘‘নিজেদেরই ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, অথচ আমরাই অন্যের ভোট দেওয়া নিশ্চিত করব! বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভোটের ডিউটি করতেই হবে।’’ সূত্রের খবর, একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে চাকদহেও। এখানকার কৃষ্ণগোপাল বিদ্যাপীঠের শিক্ষক উজ্জ্বল সাধুখাঁও ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ফার্স্ট পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। বাবার নামের বানান ভুলের অজুহাতে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হলেও পরিবারের অন্যদের নাম তালিকায় বহাল রয়েছে।
কল্যাণী মহকুমা এলাকায় শুধু এই দম্পতিই নন, একাধিক সরকারি কর্মীর ক্ষেত্রে একই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে খবর। ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ শামিল হওয়ার ডাক দিলেও খোদ ভোটকর্মীদের ভোটাধিকার নিয়ে এই চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে অস্বস্তিতে জেলা প্রশাসন। যদিও কল্যাণীর মহকুমাশাসক প্রীতম সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর বিস্তারিত জানা নেই, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— যে তালিকা তৈরির ত্রুটির কারণে ভোটকর্মীদের নাম বাদ গেল, সেই তালিকার ওপর ভিত্তি করেই কি তবে এ বার ভোট হবে?