নিউজ ডেস্ক: নির্দিষ্ট কোনও কারণ না জানিয়েই শুক্রবার আচমকা গ্রেফতার করা হল হরিণঘাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কাউন্সিলার রাজীবকুমার দালালকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিণঘাটা ও কল্যাণী এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ দিনই রাজীববাবুকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব দালালকে কল্যাণী থানার পুলিশ এ দিন সকালে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তৃণমূলের দাবি, ঠিক কী কারণে বা কোন মামলায় তাঁকে ধরা হল, তা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। শাসক দলের অভিযোগ, কোনওরকম আগাম নোটিস ছাড়াই শুক্রবার সকালে রাজীববাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করা হয়।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এই গ্রেফতারির নেপথ্যে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক ঘটনার যোগ থাকতে পারে। কয়েক দিন আগে কমিশনের রিটার্নিং অফিসার সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট উত্তম সাহার পাশাপাশি রাজীব দালালও উপস্থিত ছিলেন এবং হাজিরা খাতায় সই করেন। নিয়ম অনুযায়ী কেবল একজন প্রতিনিধি থাকতে পারবেন বলে জানানো হলে রাজীববাবুকে সই কেটে দিতে বলা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে ঘাসফুল শিবির।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হরিণঘাটার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বিশ্বাস ও স্থানীয় নেতা চঞ্চল দেবনাথ জানান, প্রথমে তাঁদের থানায় ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। রাজীববাবুর স্ত্রী সুজাতা দালালের অভিযোগ, পুলিশ জোর করে তাঁর স্বামীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান চঞ্চল দেবনাথ বলেন, ‘‘যেভাবে নোটিস ছাড়াই একজন জনপ্রতিনিধিকে তুলে আনা হল, তাতে ওঁর সম্মানহানি হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’’ ৪ মে পর্যন্ত কমিশনের নজরদারিতেই পুলিশি প্রশাসন চলবে, তার মাঝেই এই গ্রেফতারি নিয়ে জেলা রাজনীতিতে ধন্দ তৈরি হয়েছে।