নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা কি এবার কেড়ে নেবে উপাসনার অধিকারও? লোকসভা নির্বাচনের আবহে মালদার গাজোলে এক চাঞ্চল্যকর সামাজিক বয়কটের অভিযোগ উঠল। বিজেপি করার অপরাধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কিছু পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকির পাশাপাশি তাঁদের পানীয় জল ও মসজিদে প্রবেশে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গাজোলের দেওতলা অঞ্চলের চৌকিপুকুর গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
নামাজের পরেই ঘেরাও ও ফতোয়া: চৌকিপুকুর গ্রামের বাসিন্দা আজাহার হোসেন, হালিম আনসারিদের অভিযোগ, শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বেরোনোর পরেই তাঁদের ঘিরে ধরে একদল গ্রামবাসী। তাঁদের দাবি, সক্রিয়ভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকাতেই তাঁদের ওপর এই ‘ফতোয়া’ জারি করা হয়েছে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা তাঁদের জানিয়ে দেয় যে, ওই মসজিদে তাঁরা আর নামাজ পড়তে পারবেন না। এমনকি গ্রামের কোনও সরকারি নলকূপ থেকে তাঁদের পানীয় জল নিতেও বাধা দেওয়া হয় বলে গুরুতর অভিযোগ।
গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন: ক্ষুব্ধ আজাহার হোসেন বলেন, ‘ভারত গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। যে কোনও ধর্মের মানুষ যে কোনও রাজনৈতিক দল করতেই পারেন। কিন্তু আমরা বিজেপি করতে পারব না বলে ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। হুমকি উপেক্ষা করলে আরও কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।’ অভিযোগকারীদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই এই সামাজিক বয়কটের ছক কষা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।
তদন্তে গাজোল থানার পুলিশ: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই গাজোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলি। পুলিশের কাছে নিরাপত্তার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করার আর্জি জানানো হয়েছে। মালদা জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। ভোটের মুখে খোদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মীদের এই সামাজিক বয়কটের খবর মালদার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।