নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক রদবদল ও নজরদারিতে কঠোর হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার বড়সড় পদক্ষেপ করা হল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে। আইপিএস অফিসার ত্রিপুরারি অথর্বাকে বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগের নির্দেশ দিল কমিশন। বৃহস্পতিবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নিদান অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যেই এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে হবে।
প্রশাসনিক এই বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি নিচুতলার নির্বাচনী কাজে গাফিলতি বা অসঙ্গতি রুখতেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কমিশন। বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO) স্তরে বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একজন বিএলও-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তিন জন বিএলও-কেও সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের প্রাক্কালে ঠিক কী কারণে এই চার জন বিএলও-কে সাসপেন্ড করা হলো, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি কিংবা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ। একদিকে পুলিশ কমিশনার পদে রদবদল এবং অন্যদিকে চার বিএলও-র সাসপেনশন— সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে এক প্রকার থরহরিকম্প পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন যে কোনও স্তরে আপস করতে নারাজ, এই নির্দেশিকা তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।