নিউজ ডেস্ক: ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল নতুন কিছু নয়, কিন্তু ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি এলাকায় যা দেখা গেল, তেমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী আগে কখনও হননি স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে সিআরপিএফ-এর একটি বিশালাকায় অত্যাধুনিক সাঁজোয়া গাড়ি (Armoured Vehicle) গ্রামে ঢুকতেই রীতিমতো হুলস্থূল পড়ে যায়। আগে কখনও চোখের সামনে এমন রণসজ্জা না দেখায় অবাক বিস্ময়ে সেটির দিকে তাকিয়ে রইলেন গ্রামবাসীরা। কেউ তুললেন ছবি, কেউ আবার কৌতূহল মেটাতে ভিড় জমালেন রাস্তার ধারে।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপটিবাড়ি, সুস্থির হাট, ছোট দোমহোনি-সহ বিভিন্ন এলাকা চষে ফেললেন পদস্থ প্রশাসনিক কর্তারা। মূল লক্ষ্য একটাই— সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জোগানো। আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কোনওরকম প্রলোভন বা ভীতিপ্রদর্শনে কান না দিয়ে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আশ্বাস দেন। ময়নাগুড়ি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্লকে ইতিমধ্যেই ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পুরো এলাকায় ২১টি স্পর্শকাতর এবং দু’টি অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিআরপিএফ অফিসার মনোজ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, তাঁরা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে নিরন্তর জনসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, ‘‘যে সমস্ত বুথে আগের নির্বাচনগুলিতে অশান্তির ইতিহাস ছিল, আমরা ব্যক্তিগতভাবে সেই জায়গাগুলোতে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে এবার ভোট হবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে।’’
সাপটিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীরেন রায় বা সুবল বর্মণদের কথায়, ‘‘প্রশাসনের বড় কর্তারা এসে ভরসা দিয়েছেন, সেটা ভালো লেগেছে। তবে ওই বিশাল গাড়িটা দেখে আমরা সত্যিই তাজ্জব হয়ে গিয়েছি। এমন জিনিস আগে শুধু সিনেমাতেই দেখেছি, সামনে থেকে এই প্রথম।’’ কার্যত দাপুটে এই সাঁজোয়া গাড়ির উপস্থিতি এবং পুলিশের সক্রিয়তা পাহাড়তলীর গ্রামগুলোতে ভোটের উত্তাপ ও নিরাপত্তা— দুইই বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।