নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে ভাড়া মেটানোর নাম করে অ্যাপ ক্যাব চালকের স্মার্টফোন হাতিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ উঠল এক যাত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ কসবা থানা এলাকার রুবি মোড়ের কাছে এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে। চালকের তৎপরতায় শেষরক্ষা হলো না, ধ্রুব গুপ্তা নামে অভিযুক্ত ওই যাত্রীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত: পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত দুটো নাগাদ ট্যাগর পার্ক এলাকা থেকে এক বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাপ ক্যাব বুক করেছিলেন ধ্রুব। কসবা এলাকার একটি মলের সামনে তাঁর বান্ধবী নেমে যাওয়ার পর, অভিযুক্ত যাত্রী রুবি মোড়ে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর চালক ভাড়া চাইলে ধ্রুব জানান যে তিনি অনলাইনে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু চালক পেমেন্টের কোনও নোটিফিকেশন না পাওয়ায় দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
পাসওয়ার্ড জেনে জালিয়াতি: অভিযোগ, সেই সময় ধ্রুব চালককে সাহায্য করার নাম করে তাঁর মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেন। কারিগরি সমস্যার বাহানা দিয়ে কৌশলে চালকের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের পাসওয়ার্ড জেনে নেন তিনি। এরপর চালকের অজান্তেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেন বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে ফোনে টাকা কেটে যাওয়ার মেসেজ আসতেই চালকের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।
চালকের তৎপরতা ও পুলিশের ভূমিকা: বিপত্তি বুঝে ওই চালক গাড়ি থেকে যাত্রীকে নামতে না দিয়ে সরাসরি রুবি মোড়ে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মীর কাছে নিয়ে যান। পুলিশ তৎক্ষণাৎ কসবা থানায় খবর দিলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। চালকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধ্রুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাঁর আইনজীবী সৌরভ দাস দাবি করেন যে তাঁর মক্কেল টাকা ট্রান্সফার করেননি। তবে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল আদালতকে জানান, টাকা হস্তান্তরের ডিজিটাল নথি পুলিশের হাতে রয়েছে। সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।