নিউজ ডেস্ক: জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে বছরের পর বছর এ দেশে বসবাস। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ দেশের নাগরিক সেজে ভোটও দিয়েছেন তিনি! অবশেষে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট (SIR)-এর সূত্র ধরে ভবানীপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন জামিল খান নামে এক আফগান নাগরিক। বুধবার রাতে এই গ্রেপ্তারি চালানো হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত জামিল খান ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বৈধ ভিসা নিয়ে আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলেন। তাঁর কাছে আফগানিস্তানের নিজস্ব পাসপোর্টও ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ওই বছরের মে মাসেই তাঁর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও জামিল আফগানিস্তানে ফিরে যাননি। পরিবর্তে এ দেশেই পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার ছক কষেন তিনি।
অভিযোগ, এ দেশে থাকার জন্য বিপুল টাকার বিনিময়ে দালালচক্রের মাধ্যমে প্রথমে একটি ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরি করান জামিল। আর সেই ভোটার কার্ডকে হাতিয়ার করেই একে একে বানিয়ে ফেলেন ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট এবং আধার কার্ডের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। ভুয়ো ভোটার কার্ডের ওপর ভিত্তি করে ভারতের ভোটার তালিকাতেও নিজের নাম তুলে ফেলেন তিনি। গত ২০২৪ সালের নির্বাচনে সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের মতোই ভোটও দেন এই আফগান নাগরিক। এখানে থেকে তিনি মূলত সুদের কারবার চালাতেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (SIR)-এর স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ে যায় তাঁর জালিয়াতি। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয় এবং জামিলের যাবতীয় নথিপত্র পরীক্ষার জন্য লালবাজারে পাঠানো হয়। লালবাজারের কর্তারা তদন্তে নেমে জানতে পারেন, নিজেকে ভারতীয় দাবি করা ওই ব্যক্তি আসলে এক জন আফগান নাগরিক! ভুয়ো নথির জোরেই তিনি বেআইনিভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন। এর পরেই বুধবার রাতে ভবানীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং জামিলকে এই জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরিতে কারা সাহায্য করেছিল, তা জানতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছেন তদন্তকারীরা।