নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় কর্তব্যরত এক মহিলা বিএলও (BLO)-কে ফোনে উত্যক্ত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক বিজেপি কর্মী। ধৃতের নাম সমীর বিশ্বাস। মঙ্গলবার রাতে সোনারপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিএলও-র অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম না ওঠার জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ফোন করে হেনস্থা করছিলেন। বুধবার ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্য বিভ্রাট ও নাম বাদ: প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর বিশ্বাসের ভোটার তথ্যে কিছু গরমিল থাকায় তাঁকে আগে ‘হিয়ারিং’-এ ডাকা হয়েছিল। তিনি বেশ কিছু নথি জমা দিলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের কোনও লিঙ্কিং বা যোগসূত্র দেখাতে পারেননি। এর ফলে তাঁর আবেদনটি বিচারাধীন পর্যায়ে চলে যায় এবং সাম্প্রতিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ‘ডিলিটেড’ (Deleted) বা বাদ হিসেবে দেখানো হয়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই ব্যক্তি।
ফোন-বিভ্রাট ও উত্যক্ত করার অভিযোগ: পেশায় শিক্ষিকা ওই বিএলও রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, নাম বাদ পড়ার পর থেকেই সমীর বিশ্বাস তাঁকে ফোন করে নানাভাবে উত্যক্ত করতে শুরু করেন। কেন নাম ওঠেনি, তা নিয়ে রীতিমতো হুমকির সুরে কথা বলতেন তিনি। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ওই মহিলার ফোন নম্বর ব্লক করে দেন বিএলও। কিন্তু অভিযোগ, এরপর অন্য নম্বর থেকেও একইভাবে তাঁকে ফোন করে উত্যক্ত করা হতে থাকে। মেয়েকে নিয়ে একা থাকা ওই শিক্ষিকা এই ঘটনায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অবশেষে মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও নিরাপত্তা: এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে বিএলও-কে হেনস্থা করার কারণ জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সমীর বিশ্বাস নীরব থাকেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কমিশনের কাজ করতে গিয়ে যদি সরকারি কর্মীদের এভাবে হেনস্থা বা হুমকির মুখে পড়তে হয়, তবে তাঁদের নিরাপত্তা দেবে কে? এই ঘটনায় সোনারপুর এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।