নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকায় বিপুল পরিমাণ আধার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেল। রবিবার সকালে নিউ টাউনের সুলংগুড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি খালের ধার থেকে এই বস্তাবন্দি পরিচয়পত্রগুলি উদ্ধার করা হয়। ভোটের মুখে একযোগে এতগুলি আধার কার্ড কেন খালের ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও প্রশ্নের পাহাড় জমছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে খালের ধারে একটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৌতূহলবশত বস্তাটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে সকলের। দেখা যায়, ভেতরে ঠাসা রয়েছে শত শত আধার কার্ড। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই কার্ডগুলি মূলত সুলংগুড়ি দক্ষিণপাড়া ও জ্যাংড়া হাতিয়ারা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌরাঙ্গনগর এলাকার বাসিন্দাদের। খবরের সত্যতা যাচাই করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ টাউন থানার পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্য়েই সমস্ত আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
নির্বাচনের আগে নাগরিকদের এমন গুরুত্বপূর্ণ নথি এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকার নির্দিষ্ট এক বিএলও (BLO) চক্রান্ত করে এই কাজ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির অধিকাংশই তৃণমূল সমর্থকদের এবং সংশ্লিষ্ট বিএলও আদতে বিরোধী দলের আদর্শে বিশ্বাসী। ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছে শাসক দল।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দিতেই কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়ে থাকতে পারে। গোটা রহস্যের কিনারা করতে নিউ টাউন থানার পুলিশ ওই কার্ডগুলির উৎস এবং কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন কমিশনও এই স্পর্শকাতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে খবর।