নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে ঘর গোছাতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। এবার কোপ পড়ল হাওড়ার পুলিশ প্রশাসনে। উত্তর হাওড়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ থানা— লিলুয়া এবং বেলুড়ের ওসি-কে (OC) তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। লিলুয়ার নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন সুজয় টুঙ্গা এবং বেলুড় থানার ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। রবিবার রাত ১০টার মধ্যেই তাঁদের নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
রদবদলের নেপথ্যে কি রবি কিষানের রোড শো? রবিবার উত্তর হাওড়ার লিলুয়ায় বিজেপির রোড শো-কে কেন্দ্র করে লঙ্কাকাণ্ড বাধে। বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাইয়ের সমর্থনে আয়োজিত সেই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ তথা ভোজপুরি মহাতারকা রবি কিষান। অভিযোগ, মিছিলটি বামনগাছি বি রোডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছাতেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কমিশন তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট তলব করে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, লিলুয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জেরেই ওসি-কে সরানোর এই কড়া পদক্ষেপ।
ডায়মন্ড হারবারেও রদবদলের রেশ: শুধুমাত্র হাওড়া নয়, গত শুক্রবারই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলাতেও বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সজল মণ্ডলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করা হয়েছে অভিষেক মজুমদারকে। এছাড়া ডায়মন্ড হারবার, ফলতা ও উস্তি থানার আইসি ও ওসিদেরও সরিয়ে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিশনের কড়া বার্তা: বারবার পুলিশি রদবদলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কর্তব্যে সামান্যতম গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। বিশেষ করে হাওড়া ও দুই ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে যাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকে, তার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়াল কমিশন।