নিউজ ডেস্ক: ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল হাওড়ার ঘুসুড়ি এলাকা। জে এন মুখার্জি রোডের একটি জুট মিলের পেছনের গুদামে এই আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৫টি ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গুদামে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ রাখি এবং প্যাকেজিংয়ের কাগজ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
দমকল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত তিনটে নাগাদ ২৫ নম্বর গুদামটি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে। গুদামটিতে রাখি এবং প্রচুর পরিমাণ দাহ্য কাগজ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। তবে গুদামের শাটার বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। শেষ পর্যন্ত শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা জল দিতে শুরু করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় জলের অভাব মেটাতে অভিনব পন্থা নেন দমকল কর্মীরা। গুদামের কাছেই গঙ্গা নদী হওয়ায় সেখান থেকে শক্তিশালী মোটর পাম্পের সাহায্যে জল তুলে সরাসরি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হাওড়ার দমকল আধিকারিক রাজা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে ওই গুদামে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। তবে ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল— শর্ট সার্কিট না কি অন্য কোনো কারণ— তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।