নিউজ ডেস্ক: স্কুলে পরীক্ষা, তাই ঘড়ির কাঁটা ধরে পৌঁছে গিয়েছিল খুদে পড়ুয়ারা। সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকরাও। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দেখা নেই খোদ প্রধান শিক্ষকের। যাঁর হাতে থাকার কথা প্রশ্নপত্র, সেই প্রধান শিক্ষক স্কুলে এলেন প্রায় দু’ঘণ্টা পর। আর এসেই ঘোষণা করলেন, প্রশ্ন ছাপা হয়নি তাই পরীক্ষা হবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ময়নাগুড়ি ব্লকের পুঁটিমারি জেএনবি এফপি স্কুল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, স্কুলের ১৬১ জন ছাত্রছাত্রীর বৃহস্পতিবার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা অপেক্ষা করলেও প্রধান শিক্ষক অজিতকুমার রায় দীর্ঘক্ষণ স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পৌঁছলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন জানা যায়, প্রশ্নপত্র তৈরিই নেই। প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে চলে বিক্ষোভ।
নন্দিতা রায় নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষার সময় একই রকম কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন এই প্রধান শিক্ষক। অন্যান্য অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিজের মর্জি মতো স্কুল চালান। এমনকি স্কুলের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিষ্কার হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিলের খাবারও খেতে চায় না।
বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে স্থির হয়েছে, আগামী মাসের ২ তারিখে স্কুল খুললে পুনরায় বৈঠকের মাধ্যমে পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। আপাতত সব ক্লাসের পরীক্ষাই স্থগিত রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক অজিতকুমার রায় বলেন, খুব তড়িঘড়ি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বুধবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রশ্নপত্র ছাপানো সম্ভব হয়নি, তাই এদিন পরীক্ষা নেওয়া যায়নি।