নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের আবহে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুরসভাগুলোতে গভীর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কাঁচরাপাড়া থেকে ভাটপাড়া— একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং তৃণমূলী কাউন্সিলররা হাজিরা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা কার্যত লাটে উঠেছে। তবে, বিজেপির বিধায়ক ও নেতারা পুরসভাগুলিতে গিয়ে কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং ফাইল যাতে লোপাট না হয় তার জন্য বিশেষ নজরদারির কথা বলছেন। বারাকপুরের গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাগুলোতে এমন পরিস্থিতি হওয়ায় প্রশাসক বসানো হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
দুই বছরের বিরতির পর বুধবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় আসেন ভাইস চেয়ারম্যান শুভ্রাংশু রায়, যিনি মুকুল রায়ের ছেলে। শুভ্রাংশু রায় একাধিক কাউন্সিলর নিয়ে পুরসভা সচল রাখার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি নৈহাটিতে বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ এক্সিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন এবং কোনও ফাইল যাতে লোপাট না হয় তার জন্য বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেন। হালিশহরেও বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস চেয়ারম্যানদের পুরভবনে আসার এবং মানুষকে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে ভাটপাড়াতেও অচলাবস্থা জারি রয়েছে, সেখানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা আসা বন্ধ করেছেন।
এদিকে, ব্যতিক্রম দেখা গেছে উত্তর বারাকপুর পুরসভায়। পুর চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ অল্প সময়ের জন্য হলেও নিয়মিত পুরভবনে আসছেন এবং কাজকর্মে নজরদারি চালাচ্ছেন। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাসও পুরসভায় আসছেন এবং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তবে তিনি ইতিমধ্যে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই পুর অচলাবস্থা চূড়ান্ত নাগরিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।