নিউজ ডেস্ক: বেলেঘাটার তৃণমূল এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের মৃত্যু কি তবে নিছকই দুর্ঘটনা? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ইঙ্গিত এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে লালবাজারের তদন্তকারীরা এখন এমনই সিদ্ধান্তের পথে। প্রাথমিকভাবে একে ‘খুন’ বলে দাবি করা হলেও, গোয়েন্দাদের অনুমান— বিজেপি সমর্থকদের তাড়া খেয়ে ছাদ থেকে পালাতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন ওই যুবক।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য: লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছে:
-
ভাঙা জলের পাইপ: পুলিশ দেখেছে, বিল্ডিংয়ের একটি পিভিসি (PVC) জলের পাইপ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে এবং সেখান থেকে রাত দেড়টার সময়ও জল পড়ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, পাইপ বেয়ে নামার সময় ভার সইতে না পেরে সেটি ভেঙে যায়।
-
পায়ের ছাপ: ছাদ সংলগ্ন এসির আউটডোর ইউনিটে মানুষের পায়ের ছাপ মিলেছে। যা থেকে স্পষ্ট যে, বিশ্বজিৎ নিজের প্রাণ বাঁচাতে এসির ইউনিটে পা দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা করছিলেন।
-
ঝুলন্ত কেবল তার: মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে কেবল লাইনের তার ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, পাইপ ভেঙে নীচে পড়ার সময় বিশ্বজিৎ প্রথমে ওই তারের ওপর পড়েন, যার ফলে তারটি ঝুলে যায় এবং তিনি সরাসরি মাটিতে আছাড় খান।
চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এটি উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু (Fall from height)। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তিনি একবার সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চেয়েছেন। তাঁর চূড়ান্ত রিপোর্টের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সরকারিভাবে জানানো হবে।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা: যদিও বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে পরিকল্পিত খুনের ঘটনা বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বেলেঘাটা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু দুষ্কৃতী ওই রাতে বিশ্বজিৎকে তাড়া করেছিল। তাদের চিহ্নিত করার কাজ চললেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে লালবাজার।