নিউজ ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে দেওয়াল দখলের লড়াই নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সেই চিরাচরিত লড়াইয়ে এল আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা এলাকায় দেওয়াল লিখন মুছতে না পারার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এক অভিনব ‘ডিজিটাল’ প্রচার শুরু করল বিজেপি। ছোটদের হাতে লাগানো জলছবির (ট্যাটু) কায়দায় এবার দেওয়াল সাজাচ্ছে গেরুয়া শিবির। শোভাবাজার থেকে বিডন স্ট্রিট— সর্বত্রই চোখে পড়ছে এই নতুনত্বের ছোঁয়া।
শ্যামপুকুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর সমর্থনে দেওয়ালে দেওয়ালে ফুটে উঠছে এই বিশেষ ডিজিটাল ছবি। বিজেপি কর্মীদের দাবি, হাতে রং-তুলি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেওয়াল লিখনের দিন এবার শেষ। এখন কেবল জল আর একটি ব্রাশ থাকলেই কেল্লাফতে। পদ্ধতিটি অনেকটা জলছবির মতোই— পোস্টারটি দেওয়ালের গায়ে লাগিয়ে উপর থেকে জল দিয়ে ঘষলেই দেওয়ালে স্থায়ীভাবে ফুটে উঠছে উজ্জ্বল লেখা ও ছবি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝকঝকে কোনও ছাপা পোস্টার দেওয়ালের সঙ্গে লেপ্টে রয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটেই সম্পন্ন হচ্ছে এই কাজ।
কেন এই ব্যয়বহুল ও আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে? সে প্রশ্নের উত্তরে প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এলাকায় আমাদের দেওয়াল লিখন বা পোস্টার নিয়মিত ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে অথবা কালো কালি লেপে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানতাম বিরোধীরা আমাদের প্রচার করতে দেবে না, তাই এই অভিনব ব্যবস্থা। এই জলছবি দেওয়াল থেকে সহজে তোলা যাবে না, ছিঁড়ে ফেলাও অসম্ভব। দেওয়াল খুঁড়েও এটি নষ্ট করা কঠিন।’’
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এই ডিজিটাল দেওয়াল লিখন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, এই পদ্ধতিতে সময় ও পরিশ্রম যেমন কম লাগে, তেমনই প্রচারের জৌলুস থাকে অটুট। বৃষ্টির জলেও এই রঙের কোনও ক্ষতি হবে না বলে দাবি কর্মীদের। উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি গলিতে এই ঝকঝকে দেওয়াল লিখন সাধারণ মানুষেরও নজর কাড়ছে। বিরোধীরা বারবার দেওয়াল দখলের চেষ্টা করলেও এই ‘ডিজিটাল’ দেওয়াল লিখনের টেকসই ক্ষমতার কাছে তারা হার মানবে বলেই মনে করছে পদ্ম শিবির।