নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রার পুণ্যতিথি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর দিন গোনা। চিরাচরিত প্রথা মেনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও কাঠামোপুজো করে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়েছে, আবার কোথাও সাড়ম্বরে খুঁটিপুজোর মাধ্যমে মণ্ডপ নির্মাণের শুভ সূচনা সম্পন্ন হয়েছে। শারদোৎসবের আবহ আসতেই স্বাভাবিকভাবেই পুজো কমিটিগুলির অন্দরে শুরু হয়েছে বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও হিসাবনিকাশ। তবে এবার বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুজো উদ্যোক্তাদের মনে একটা বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— নতুন সরকার কি আগের তৃণমূল সরকারের মতোই আর্থিক অনুদান জারি রাখবে? নাকি নিয়মে আসবে বড় বদল?
নবান্ন এবং রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলে এই নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে। গত বছর তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলিকে রাজ্যের তরফে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে মিলত ৮০ শতাংশ ছাড়। কিন্তু বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো অনুদান নিয়ে ইতিপূর্বেই একটি নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বিচারে সব পুজো কমিটিকে হয়তো এবার ঢালাও অনুদান দেওয়া হবে না। বরং যে সমস্ত ছোট বা মাঝারি বাজেটের পুজো সম্পূর্ণভাবে এই সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, তাদের চিহ্নিত করে ‘প্রয়োজন ভিত্তিক’ (Need-based) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে পুজো মহল্লায়। বড় বাজেটের কর্পোরেট স্পন্সর পাওয়া পুজো কমিটিগুলি কি তবে এবার অনুদানের তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে? আর যে সমস্ত ছোট পুজো এই টাকার ওপর ভরসা করে থাকে, তাদের অনুদানের অঙ্ক কি এবার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে? প্রশাসনের অন্দরের খবর, পুজো কমিটিগুলির আর্থিক প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরির কাজ চালাচ্ছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। রথের রশিতে টান পড়ার সঙ্গেই বঙ্গে উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ে গেলেও, এবার পুজো কমিটিগুলির কপালে সরকারি অনুদানের শিকে ঠিক কীভাবে ছিঁড়বে, তা জানতে আর কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে পুজো কর্তাদের।