নিউজ ডেস্ক: রথের রশিতে টান পড়তেই ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল আকাশ-বাতাস। প্রথা মেনে রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে উৎসবের আমেজে মাতল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ও সংলগ্ন কলকাতা। বারাসতের ইসকনের রথ থেকে শুরু করে বারাকপুরের ৩০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আতপুর রাজবাড়ির রথ— সর্বত্রই বৃহস্পতিবার চোখে পড়ল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। এর পাশাপাশি, রথের দিনেই শারদোৎসবের ঢাকে কাঠি দিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো ও কাঠামোপুজো।
এ বছর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রথযাত্রা উৎসবের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান। এই প্রথমবার রাজ্য সরকারের তরফে রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। বারাকপুরের কাঁঠালপাড়ায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির ১৬৮ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিও এই অনুদান পেয়েছে। কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এই ৫ লক্ষ টাকা রথ ও মেলাপ্রাঙ্গণের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে। রথযাত্রা উপলক্ষে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় ৯ দিনের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলারও সূচনা হয়েছে।
এদিন বারাকপুরের আতপুর রাজবাড়ির রথের রশিতে টান দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। জগন্নাথ দেবের বিশেষ পুজোয় অংশ নেন ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং। অন্যদিকে, ইছাপুরের নবাবগঞ্জ, মোহনপুর-সহ বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ধুমধাম করে রথটান সম্পন্ন হয়। বিকেলে রথ বেরোনোর পর বি টি রোড এবং ঘোষপাড়া রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেলাপ্রাঙ্গণগুলিতে পাঁপড়ভাজা ও চারা গাছ বিক্রির চেনা ছবিও নজরে আসে।
জেলার অন্য প্রান্তে, বারাসত শহরে ইসকনের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। রথযাত্রার এই শুভ দিনেই বারাসতের একাধিক নামী দুর্গোৎসব ও কালীপুজো কমিটির খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানগুলিতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি যুব সভাপতি শুভঙ্কর সেন এবং শিক্ষক দীপ্ত লস্কর-সহ বিশিষ্টজনেরা। হাবড়ার ঐতিহ্যবাহী রথতলার মেলা এবং বামনগাছিতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে তৈরি ৪০ ফুট উচ্চতার ‘রাম টাওয়ার’ দেখতেও মানুষের ঢল নামে। দেগঙ্গা, মধ্যমগ্রাম ও অশোকনগরেও সাড়ম্বরে উৎসব পালিত হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের ঘোষ জমিদার বাড়ির রথযাত্রা। এখানে প্রাচীন প্রথা মেনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার পুজোর সঙ্গেই দেবী দুর্গার কাঠামোপুজো অনুষ্ঠিত হয়। একদা অবিভক্ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুজো হিসেবে খ্যাত এই জমিদার বাড়িতে এখনও রথের দিনে বহু সংস্কৃতিপ্রেমী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও রথযাত্রার ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। শ্রী জগন্নাথ সেবা সমিতির উদ্যোগে খিদিরপুর মন্দিরের রথযাত্রায় অংশ নেন কলকাতার বহু পুণ্যার্থী।