নিউজ ডেস্ক: মহানগরীর হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা এবং বৈধতা নিয়ে এ বার নজিরবিহীনভাবে কঠোর হতে চলেছে লালবাজার। কলকাতার কোন কোন হোটেল বা গেস্ট হাউসের পুলিশি লাইসেন্স নেই কিংবা কার লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা তলব করা হয়েছে প্রতিটি ডিভিশনের কাছে। মূলত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি এই তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমেছেন কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারী আবাসনগুলির বিরুদ্ধে কেবল আইনি পদক্ষেপই নয়, পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই ব্যবসা চলছিল, তার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের আধিকারিকদের কাছেও ব্যাখ্যা তলব করা হচ্ছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, এই তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বছরখানেক আগে জোড়াসাঁকো এলাকার ফল পট্টির একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় হোটেলের মালিক-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাঁরা জামিন পান। অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় লালবাজার। সেই মামলার শুনানিতেই দেশের শীর্ষ আদালত জানতে চায়, কলকাতার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলি আদৌ নিয়ম মেনে চলছে কি না। আদালতের সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এ বার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
শনিবার লালবাজারের তরফে সমস্ত ডিভিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের এলাকায় কতগুলি হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে এবং কতগুলির বৈধ লাইসেন্স নেই, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে। পুলিশি লাইসেন্সের পাশাপাশি পুরসভা এবং দমকল দপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ হোটেলেরই দমকল বা পুলিশের লাইসেন্স নেই, আবার অনেকের লাইসেন্সের নবীকরণ (রিনিউয়াল) করা হয়নি দীর্ঘ দিন।
এই গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের পাশাপাশি দায় এড়াতে পারছেন না পুলিশ আধিকারিকরাও। কীভাবে পুলিশের নাকের ডগায় লাইসেন্স ছাড়া দিনের পর দিন এই ব্যবসা চলছিল, তার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে বিভাগীয় প্রধানদের কাছে। লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারী হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমস্ত তথ্য সংবলিত একটি বিস্তারিত নথি খুব শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই মেগা ড্রাইভ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।