নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে সরশুনার বাগপোতায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। নিজের ভাড়া করা বাড়ির পিছনের ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হল এক রাজমিস্ত্রির রক্তাক্ত দেহ। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদেহের আঘাতের ধরণ দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আততায়ী হয়তো নিহতের অত্যন্ত পরিচিত কেউ।
মৃতের নাম ভোলানাথ বিশ্বাস (৩৯)। আদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুকুরের বাসিন্দা ভোলানাথ পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং একটি ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। গত ২০২০ সাল থেকে সরশুনার বাগপোতা ফার্স্ট বাই লেনের চূড়ামণি নস্করের বাড়িতে একা ভাড়া থাকতেন তিনি। বাড়ির মালকিন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তাঁর ছোটো ছেলে প্রথম ভোলানাথকে বাড়ির পিছনে চিত হয়ে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে ওঠে। খবর পেয়ে সরশুনা থানার পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা। আততায়ীকে শনাক্ত করতে আনা হয় স্নিফার ডগ। সংগৃহীত করা হয় ফরেন্সিক নমুনা এবং গোটা এলাকাটির ভিডিওগ্রাফি করা হয়। শনিবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ভোলানাথের গলায় দু’টি এবং মুখে একটি গভীর ক্ষত রয়েছে। তবে সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হল, নিহতের দেহে কোনও ধস্তাধস্তির চিহ্ন বা ‘রেজিস্টেন্স মার্ক’ মেলেনি। গোয়েন্দাদের মতে, পরিচিত কেউ হওয়ায় ভোলানাথ কোনও প্রতিরোধ করার সুযোগ পাননি অথবা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে।
বাড়িওয়ালার ছেলে পলাশ নস্কর সরশুনা থানায় খুনের মামলা রুজু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোলানাথ বাড়িতে একাই থাকতেন এবং সাধারণত তাঁর ঘরে কাউকে আসতে দেখা যেত না। এলাকায় কোনও সিসি ক্যামেরা না থাকায় ঘাতককে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। একাকী থাকা এই যুবকের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনিকে ধরতে নিহতের কল লিস্ট ও পরিচিত মহলে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।