নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি দল। বৃহস্পতিবার খাস কলকাতা এবং শহরতলি এলাকায় নাকা চেকিং ও তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার করল স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম (SST)। পাশাপাশি, সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে এবং ‘স্পর্শকাতর’ এলাকাগুলির প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এ দিন পথে নামলেন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং বিধাননগর ও বারাকপুরের পুলিশ কমিশনাররা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন উত্তর কলকাতার বড়তলা থানা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ দল। এ ছাড়া ঠাকুরপুকুর থানার জোকায় একটি গাড়ি থেকে ৪ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। সবথেকে বড় সাফল্য মিলেছে জোড়াসাঁকো এলাকায়; সেখানে তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। হিসাব-বহির্ভূত এই বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আয়কর দপ্তর।
টাকা উদ্ধারের সমান্তরালে এ দিন উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অলিগলিতে রুট মার্চ এবং জনসংযোগ সারলেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (উত্তর) স্মিতা পাণ্ডে এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (১) ডি পি সিংহ। তিলজলা রোডের ডঃ বি আর আম্বেদকর স্কুল সংলগ্ন এলাকা, ধাড়াপাড়া ও বড় মসজিদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি তাঁরা পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে স্মিতা পাণ্ডে আশ্বাস দেন, “ভয়ের কোনও কারণ নেই। নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যান, কোনও সমস্যা হলে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।”
একই ছবি দেখা গিয়েছে দক্ষিণ কলকাতায়। সেখানকার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক রণধীর কুমার কলকাতা বন্দর এলাকার বিভিন্ন বুথ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করেন। ভোটারদের মনোবল বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে চলে দীর্ঘ রুট মার্চ। অন্যদিকে, বিধাননগর ও বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেও এ দিন ছিল সাজ সাজ রব। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর বাগুইআটির কেষ্টপুর, ঘোষপাড়া ও পঞ্চাননতলার মতো জনবহুল ও ঘিঞ্জি বসতি এলাকাগুলি পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন।
বীজপুরের হাজিনগরেও এ দিন শিল্পা গৌরীসারিয়া এবং পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিংহ সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের এলাকায় দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন ভোটাররা। নির্বিঘ্নে ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ভোট সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য।