নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফ্রেজারগঞ্জে এক বৃদ্ধার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হওয়া সেই ‘আত্মহত্যা’র ঘটনার পরতে পরতে যে নৃশংস অপরাধ লুকিয়ে ছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা সামনে এল। শাশুড়িকে কুপিয়ে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার পুত্রবধূ টুম্পা ঘড়ুইকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্তের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই খুন বলে দাবি স্থানীয়দের।

খুন না আত্মহত্যা? বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ভোটের প্রথম দিন সকালে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার উত্তর দেবনিবাস এলাকায় একটি গাছ থেকে বলাকা ঘড়ুই (৬০) নামে ওই বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবি ছিল, বৃদ্ধার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুক্রবার টুম্পাকে গ্রেফতারের পর অভিযোগ ওঠে, নিজের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকে প্রথমে কুপিয়ে খুন করেন টুম্পা। পরে অপরাধ ঢাকতে নদীর পাড়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে দেহটি ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ও বিক্ষোভ: এদিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বুধবার রাতেই ওই বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ এসেছিল। বৃদ্ধার আত্মীয় সুকুমার বেরার দাবি, “ঘরে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছিল, পুলিশ এসে ছবিও তুলেছে। এমনকি রক্তমাখা অস্ত্রও মিলেছে। তবুও পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি এবং আসামীকে ছেড়ে দিয়েছিল।” পুলিশের এই ‘গাফিলতি’র প্রতিবাদে শুক্রবার পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান গ্রামবাসীরা।

নেপথ্যে পরকীয়া বিবাদ: স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত টুম্পার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হত। বুধবার সেই অশান্তি চরমে পৌঁছলে টুম্পার স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অভিযোগ, সেই সুযোগেই শাশুড়িকে কুপিয়ে মেরে ফেলেন টুম্পা। ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

Share on Social Media