নিউজ ডেস্ক: কথায় আছে, হাতির দেখানোর দাঁত একটা আর চিবানোর আরেকটা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রণকৌশল অনেকটা তেমনই ছিল। ভোট নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণ আধাসেনা মোতায়েন করা হলেও, আদতে তাদের বন্দুকের নল ছিল নিচু। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, খুব বড় কোনো বিপদ না হলে কাঁধের স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। পরিবর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাওয়াই হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাধারণ ‘লাঠি’কে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বুধবার দিনভর বাংলার বিভিন্ন বুথে সেই ছবিই দেখা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, অশান্তি রুখতে জওয়ানদের হাতে প্রায় ১ লক্ষ লাঠি তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলতা থেকে হাওড়া— যেখানেই জটলা বা উত্তেজনার খবর মিলেছে, সেখানেই বাহিনীর ‘লাঠিচার্জ’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।
কেন এই নয়া কৌশল? কমিশনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে পাঁচ বছর আগের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। ২০২১ সালের নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলকুচিতে বাহিনীর গুলিতে চার ভোটারের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে জাতীয় স্তরে কমিশনের প্রবল মুখ পুড়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার প্রথম থেকে ‘নন-লেথাল’ বা কম প্রাণঘাতী পন্থায় জোর দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর কর্তাদের একাংশের মতে, লাঠি চালিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা অনেক বেশি কার্যকর এবং এতে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে না।
জওয়ানদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: সাধারণত সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের লাঠি চালানোর বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকে। কিন্তু বিএসএফ (BSF) বা এসএসবি (SSB)-র মতো সীমান্ত পাহারা দেওয়া বাহিনীর জওয়ানদের কাছে লাঠি ব্যবহারের অভ্যাস ছিল না। এই ঘাটতি মেটাতে ভিন রাজ্য থেকে প্রায় ৭৫ হাজার লাঠি আনিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কমিশন। ভোটের অনেক আগেই তাঁদের এই ‘লাঠি দাওয়াই’-এর পাঠ দিয়ে পাকাপোক্ত করা হয়।
কমিশনের দাবি, এই কৌশলের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে দ্বিতীয় দফায়। বড় কোনো রক্তপাত ছাড়াই ছোটখাটো অশান্তিগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। জওয়ানদের এই ‘লাঠির সদ্ব্যবহার’ আগামী দফার ভোটগুলোতেও বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।