নিউজ ডেস্ক: ভোটগণনা নিয়ে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা হবে মাত্র ৭৭টি কেন্দ্রে। এর আগে এই সংখ্যাটি ১০৮ থেকে কমিয়ে ৮৭ করা হয়েছিল, যা আরও একদফা কমিয়ে দেওয়া হলো। গণনাকেন্দ্রের এই পুনর্বিন্যাস নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ৯০টি এবং ২০২১ সালে ১০৮টি গণনাকেন্দ্র ছিল। এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পেছনে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। এমনকি এই সংখ্যা ৭৭-এর থেকেও কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণের পর তবেই সংশ্লিষ্ট কর্মীরা গণনাকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন।
এদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। ফলতার ৩২টি, ডায়মন্ডহারবারের ২৯টি, মগরাহাট পূর্বের ১৩টি এবং বজবজের ৩টি বুথে নতুন করে ভোট করানোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। যদি কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আজ শুক্রবার পুনর্নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে এবং শনিবার ভোট হতে পারে।
গণনাকেন্দ্রের এই পরিবর্তন এবং সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।