নিউজ ডেস্ক: হাড়কাঁপানো ঠান্ডার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কম্পন-আতঙ্কে কাঁপছে পাহাড়। বৃহস্পতিবার মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে এক-আধবার নয়, মোট ছ’বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম। কম্পন অনুভূত হয়েছে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলের শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতেও। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা খুব বেশি না থাকলেও, যেভাবে ঘনঘন মাটি কেঁপে উঠছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটকরা।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে প্রথম ভূকম্পন হয় সিকিমে। পশ্চিম সিকিমের গ্যালসিং ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল, রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.৬। এরপর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত দফায় দফায় আরও পাঁচবার কেঁপে ওঠে হিমালয় সংলগ্ন এই রাজ্য। কখনও মঙ্গন, কখনও নামচি আবার কখনও গ্যালসিং— বারবার উৎসস্থল বদলেছে ঠিকই, কিন্তু কম্পনের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। যদিও বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও মেলেনি।
উদ্বেগের বিষয় হল, গত ৫ ফেব্রুয়ারিও মাত্র চার ঘণ্টায় ১২ বার কেঁপেছিল সিকিম। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। সিকিমের আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু কেন এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এই কম্পন, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সুবীর সরকার অবশ্য একে ‘মাইক্রো সিসমিক অ্যাক্টিভিটি’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সামঞ্জস্যবিধান না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে পারে।
পাহাড়ের গ্যালসিং ও মঙ্গন এলাকায় অতীতেও এমন ক্ষুদ্র কম্পন দেখা গিয়েছে। তবে বারবার এমন ঘটনা বড় কোনও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। পর্যটন মরসুমের মুখে এই ধারাবাহিক কম্পন সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসার ওপরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।