নিউজ ডেস্ক: পেটের টানে জঙ্গলে গিয়ে আর ফেরা হলো না। সুন্দরবনের গভীরে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হলো এক মৌলির। মৃতের নাম গোবিন্দ গায়েন (৪১)। শুক্রবার দুপুরে সহকর্মীরা তাঁর নিথর দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনলে কান্নার রোলে ভারী হয়ে ওঠে মৈপীঠের কিশোরীমোহনপুর এলাকার বাতাস। বনবিবির জঙ্গলে ফের বাঘের হানায় স্বজন হারানোর বেদনায় মূহ্যমান গোটা গ্রাম।
পাখিরালয়ের জঙ্গলে অতর্কিত হানা: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৈপীঠের কিশোরীমোহনপুরের বাসিন্দা গোবিন্দ গায়েন আরও দুই সঙ্গীর সঙ্গে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার ভোরে তাঁরা পাখিরালয় সংলগ্ন জঙ্গলে প্রবেশ করেন। যখন তাঁরা একটি গাছে মধুর চাক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঝোপের আড়াল থেকে অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষিণরায়। বাঘটি গোবিন্দের ঘাড়ে কামড় বসিয়ে তাঁকে গভীর জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সঙ্গীদের মরিয়া লড়াই: বিপদ বুঝে পিছিয়ে যাননি গোবিন্দের দুই সঙ্গী। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে তাঁরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাঘের ওপর চড়াও হন। বাঘের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। গ্রামবাসীদের সাহসিকতার সামনে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শিকার ছেড়ে গভীর জঙ্গলে গা ঢাকা দেয় বাঘটি। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। বাঘের দাঁত গোবিন্দের কণ্ঠনালী এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
গ্রামে শোকের ছায়া: বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে তাঁরা জঙ্গলে গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। তবে বসন্তের এই মরসুমে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বারবার সুন্দরবনের মৌলিরা বাঘের কবলে পড়ছেন। শুক্রবার দুপুরে গোবিন্দের দেহ গ্রামে পৌঁছতেই ভেঙে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, এই ঘটনা আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।