নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার বিধানসভা নির্বাচনে এমন রণসজ্জা স্বাধীনতার পর আর কখনও দেখেনি শহরবাসী। একদিকে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ‘মার্কসম্যান’, আর অন্যদিকে শহরের ৭০০টি অলিগলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে হাজারেরও বেশি অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকারের রেকর্ডে কলকাতা ‘নিরাপদতম’ শহরের তকমা পেলেও, ভোটের ময়দানে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।
অলিগলিতে কড়া নজরদারি: বড় রাস্তা বা বুথ চত্বর তো বটেই, এবার কমিশনের নজরে পাড়ার ভেতরের অলিগলি। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার অলিগলি দিয়েই মূলত দুষ্কৃতীদের যাতায়াত বা ভোটারদের ভয় দেখানোর কাজ চলে— এই গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিহ্নিত করা হয়েছে ৭০০টি গলি। লালবাজার সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই অলিগলির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং সেখানেই প্রায় ২৫০টি গলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এন্টালি, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, বেলেঘাটা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া এলাকায় রবিরার রাত থেকেই অস্থায়ী ক্যামেরা বসানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।
উত্তরে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ বুথের ছড়াছড়ি: উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৭৩ শতাংশ বুথকেই ইতিমধ্যে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। এই বিশাল সংখ্যক স্পর্শকাতর বুথ সামলাতে এবার পাড়ার ভেতর পর্যন্ত নজরদারি প্রসারিত করা হচ্ছে। এর আগে কখনও শহরের গলির ভেতর এভাবে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে লাইভ স্ট্রিমিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কমিশনের এই ‘নয়া দাওয়াই’ পাড়ার দাদাগিরি ও ছাপ্পা ভোটের কার কারসাজি বন্ধ করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।
সাঁজোয়া গাড়ি ও বাহিনীর দাপট: শহরজুড়ে ইতিমধ্য়েই মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। মোড়ে মোড়ে স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম (SST) এবং ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) নাকা তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি গলিগুলিতে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, কলকাতার ভোটে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বা পেশিশক্তির ব্যবহার রুখতে তারা এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।