নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের অভূতপূর্ব হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশন। কোনো এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো হলে বা বাইক বাহিনীর দাপাদাপি চললে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) বা আইসি-কে (IC) এমন শাস্তির মুখে পড়তে হবে যা তাঁরা ‘দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি’— রবিবার এক বৈঠকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন স্পেশাল অবজার্ভার এন কে মিশ্র। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পক্ষপাতিত্ব বা কর্তব্যে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সাসপেনশনের খাঁড়া নামবে এবং ভোট মিটলেও সেই শাস্তি প্রত্যাহার করবে না কমিশন।
রবিবার রাতের মধ্যেই ধরপাকড়ের নির্দেশ: আগামী বুধবার কলকাতা, হাওড়া ও দুই ২৪ পরগনার হাই-ভোল্টেজ ভোট। তার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেন কমিশনের আধিকারিকরা। স্পেশাল অবজার্ভার নির্দেশ দিয়েছেন, যাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, রবিবার রাতের মধ্যেই তাদের পাকড়াও করে লকআপে ঢোকাতে হবে। যারা পলাতক, তারা যাতে কোনওভাবেই এলাকায় দেখা না যায়, তা সুনিশ্চিত করার ভার দেওয়া হয়েছে থানার ওসিদের ওপর। কমিশনের সাফ কথা, “দুর্বৃত্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়ালে তার দায় পুলিশের।”
থানাগুলির ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে ক্ষোভ: কমিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছে খবর এসেছে যে, দ্বিতীয় দফার আগে বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বাইক বাহিনী টহল দিচ্ছে। অথচ বেশ কিছু থানা এই বিষয়ে রীতিমতো ‘নিষ্ক্রিয়’। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পেয়েও ধরপাকড় তো দূর, নিয়মিত মামলা পর্যন্ত রুজু করা হচ্ছে না। এই গাফিলতিকে চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে ইসিআই (ECI)। পুলিশ আধিকারিকদের বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভয় ভাঙাতে এলাকায় এলাকায় তাঁদের সক্রিয় হতে হবে।
বিস্ফোরক উদ্ধার ও নজিরবিহীন শাস্তি: ভোটের আগে প্রতিটি থানা এলাকায় বিস্ফোরক ও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। যদি কোনও এলাকা থেকে পরে বিস্ফোরক উদ্ধার হয় বা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে সেই থানার কর্তৃপক্ষকে নজিরবিহীন পরিণতির মুখে পড়তে হবে। স্পেশাল অবজার্ভার এন কে মিশ্রের কথায়, “রেয়াত করা হবে না কাউকেই। সামান্যতম ভুলত্রুটিও বরদাস্ত করবে না কমিশন।” নির্বাচনের ইতিহাসে পুলিশ আধিকারিকদের ওপর এমন প্রশাসনিক চাপ ও হুঁশিয়ারি কার্যত বেনজির।