নিউজ ডেস্ক: নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের পর এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। সোমবার রাতে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে সোজা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মঞ্জু বসুর বাড়িতে পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। ২৬ বছর আগে যে বিকাশ বসু হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে জেল খাটতে হয়েছিল, সেই সহযোদ্ধার বাড়িতে গিয়েই এদিন অর্জুন ঘোষণা করলেন— “আমি কলঙ্কমুক্ত হলাম।”
২০০০ সালের ১ এপ্রিল খুন হয়েছিলেন নোয়াপাড়ার দাপুটে নেতা বিকাশ বসু। সেই সময় অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ আড়াই দশক পর সেই ইতিহাস যেন এক বৃত্ত সম্পন্ন করল। তৃণমূল টিকিট না দেওয়ায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা মঞ্চে অপমানের শিকার হওয়া মঞ্জু বসুর আশীর্বাদই অর্জুনের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মঞ্জু বসুও এদিন স্পষ্ট জানান, ধর্ণা মঞ্চে তাঁকে যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, নোয়াপাড়ার মানুষ তা ভালো চোখে দেখেনি। তারই প্রতিফলন ঘটেছে ইভিএমে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করার পর অর্জুন সিং জানান, এবার নোয়াপাড়ার উন্নয়ন তিনি ‘মঞ্জুদি’কে সঙ্গে নিয়েই করবেন। বিকাশ বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে বসে এদিন চা-মিষ্টিও খান অর্জুন।
এদিকে, জয়ের পর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কাউন্সিলর ও নেতাদের বাড়িতে হামলা এবং পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে অর্জুন সিং কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “ভাঙচুর বিজেপির কালচার নয়। কিছু তৃণমূল লোক রাতারাতি ভোল বদলে গেরুয়া আবির মেখে এই কাজ করছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।