নিউজ ডেস্ক: বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের পিছনে কি কেবল রাজনৈতিক প্রচার, নাকি কাজ করেছে দিল্লির কোনো নিপুণ বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা? নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত গোপনে জাল বিছিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি ‘স্পেশাল টিম’ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের পুলিশ অফিসারদের কার্যত অন্ধকারে রেখেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে আসা এই বিশেষ দলগুলি জেলায় জেলায় ঘুরে তৃণমূলের স্থানীয় ‘দাদা’ বা ‘মস্তান’দের চিহ্নিত করেছে। কারা বুথ দখল করে, কারা ভোটারদের ভয় দেখায় এবং কাদের নামে অপরাধের ইতিহাস রয়েছে— তার একটি বিস্তারিত ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে এই অফিসাররা তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বা পুলিশ ঘুণাক্ষরেও কিছু টের না পায়। দিল্লির স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই মিশনের খবর যেন ‘কাকপক্ষীও টের না পায়’।
এই গোপন রিপোর্টে উঠে এসেছিল প্রতিটি ব্লকের তৃণমূল নেতাদের দাপট, তাঁদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের পরিমাণ এবং ‘থ্রেট কালচার’-এর কুখ্যাত মুখদের তালিকা। এই তালিকার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারি বা এলাকা ছাড়া করার কৌশল নেয় বিজেপি। ভোটপর্ব যে নজিরবিহীন শান্তিতে মিটেছে, তার নেপথ্যে ছিল গোয়েন্দাদের এই ‘অপরাধী তালিকা’ ও নিখুঁত রোডম্যাপ।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই বিপুল জয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফসল। গোয়েন্দাদের তৈরি করা সেই চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অপরাধীদের সিংহভাগই এখন এলাকা ছাড়া। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের পর এই দুষ্কৃতীরাই যে প্রথম ‘টার্গেট’ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। অপরাধের ইতিহাস মুছে দিয়ে বাংলায় আইনের শাসন ফেরানোই এখন নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।