নিউজ ডেস্ক: হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে থাকে সরকারি হাসপাতালের করিডোর। অনেক সাধ্যসাধনায় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে বেড মিললেও, চিকিৎসকের সঙ্গে দু’-দণ্ড কথা বলার সুযোগ মেলে না। বড় ডাক্তারবাবু আসেন, একঝাঁক জুনিয়র ডাক্তারকে নিয়ে রোগী দেখে দ্রুত বেরিয়ে যান। মনের মধ্যে জমে থাকা পাহাড়প্রমাণ প্রশ্ন আর উৎকণ্ঠা নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পরিজনদের। রোগীদের এই যন্ত্রণা ও বাড়ির লোকের উদ্বেগ কমাতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রোজ বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে ‘পার্টি মিট’।
স্বাস্থ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক এক রিভিউ মিটিংয়ে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে সাফ জানানো হয়েছে, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে বড় মেডিকেল কলেজ— সর্বত্রই চিকিৎসকদের প্রতিদিন রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিজনদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পার্টি মিট’। অনেক হাসপাতালে এই প্রথা একপ্রকার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, যা এবার বাধ্যতামূলকভাবে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী কী নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে?
-
সুনির্দিষ্ট ঘর: প্রতিটি ওয়ার্ডে বা একাধিক বিভাগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ঘরে পরিজনদের সঙ্গে কথা বলবেন চিকিৎসকরা। সেখানে বসা ও পাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
-
চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়: প্রেসক্রিপশন বা বেড হেড টিকিটে (BHT) সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাটাকাটা সই নয়, বরং পুরো সই এবং অফিশিয়াল স্ট্যাম্প থাকা আবশ্যিক।
-
সুপারদের রাউন্ড: হাসপাতালের সুপারদের দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ইনডোর ও আউটডোর রাউন্ড দিতে হবে।
-
রক্তপরীক্ষা: আউটডোরের রোগীদের জন্য দিনের দিনই রক্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে হবে, যাতে রোগীদের বারবার হাসপাতালে ছুটতে না হয়।
এছাড়াও প্রেসক্রিপশনের গুণমান যাচাই করতে প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত ৩০টি করে প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে পরিষেবা মিললেও, তথ্যের অভাবে রোগীর পরিবার যে মানসিক হয়রানির শিকার হয়, এই নতুন পদক্ষেপে তার অবসান ঘটবে বলেই আশা করছে স্বাস্থ্য ভবন।