নিউজ ডেস্ক: বাড়িতে মদ্যপানের আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারাতে হল এক বৃদ্ধাকে। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে ৬৫ বছরের এক বিধবা মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, প্রতিবাদী হওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে ওই বৃদ্ধাকে। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শানু মান্না (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, জগৎবল্লভপুরের ওই বাড়িতে একাই থাকতেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন, ছেলে বিদেশে থাকেন এবং মেয়েদেরও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা প্রায়ই বৃদ্ধার বাড়িতে বসে মদের আসর জমাত। গত শুক্রবার ঘর থেকে বৃদ্ধার বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পুলিশের অনুমান, মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাঁকে। খুনের পর বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
পরিবারের সদস্যরা বেশ কয়েকদিন ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রতিবেশীদের খবর দেন। শুক্রবার এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ালে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে বৃদ্ধার দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে। ক্রমাগত জেরার মুখে ধৃত শানু মান্না খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
ধৃত যুবককে রবিবার আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকা দখলের লড়াই নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ, সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।