নিউজ ডেস্ক: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খান হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পরতে পরতে উঠে আসছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নানা রোমহর্ষক তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, শফিককে ‘সবক’ শেখাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ৬২ হাজার টাকা খরচ করে মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ আনিয়েছিল মূল অভিযুক্ত হারুন। ধৃতকে জেরা করে এই খুনের নেপথ্যে মধ্য কলকাতার এক সময়ের ত্রাস, কুখ্যাত গব্বর ওরফে রশিদের নামও জড়িয়ে গিয়েছে।
পুরনো শত্রুতা ও মুঙ্গেরি অস্ত্রের আমদানি: তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে হারুন ও শফিক একই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে হারুনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনে শফিক, যার ফলে হারুনকে জেল খাটতে হয়। সেই থেকেই আক্রোশ চরমে ওঠে। জেল থেকে বেরিয়েই শফিককে খতম করার ছক কষে ওই আফগান যুবক। তার সঙ্গী রাফাকাত ওরফে রোহিত নিজের পরিচিত এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই মুঙ্গের থেকে ৭.৬২ এমএম পিস্তল ও ১০টি গুলি কিনে নিয়ে আসে।
খুনের আগের নাটকীয় মুহূর্ত: গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, খুনের আগে জনৈক পারভেজ নামে এক ব্যবসায়ীর ধার দেওয়া ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শফিকের সঙ্গে হারুনের চরম বিবাদ হয়। ফোনের সেই বচসা থেকেই খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পায়। হারুনের দাবি, ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে শফিক নিজেই দলবল নিয়ে হারুনকে খতম করতে এসেছিল। পাল্টা চালে হারুন তাকে কথা বলার নাম করে ডেকে পাঠায়। দুই পক্ষের বচসা চলাকালীন রোহিত লক্ষ্য করে যে, শফিকের দেহরক্ষী পিস্তল তাক করছে। তখনই রোহিত ও হারুন পালটা গুলি চালায়, যার মধ্যে দ্বিতীয় গুলিটি সরাসরি শফিকের বুকে লাগে।
জেলে ‘হাতেখড়ি’ ও গব্বর যোগ: তদন্তকারীদের কাছে হারুন স্বীকার করেছে যে, আলিপুর জেলে বন্দি থাকার সময় বান্টি খুনে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গব্বরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকেই অপরাধ জগতের অন্ধকার পথে তার পাকাপাকি যাতায়াত শুরু। জেল থেকে বেরিয়ে গব্বরের শাগরেদদের নিয়ে আলাদা দল গড়ে পিলখানা এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ও তোলাবাজির কারবার শুরু করে সে।
খুনের পর পলায়ন ও আশ্রয়: খুনের পর হারুন ও রোহিত জোড়াসাঁকো হয়ে ধর্মতলা এবং মেটিয়াবুরুজে পালিয়ে যায়। শেষে নিউ মার্কেটে গব্বরের এক আত্মীয়ের সাহায্যে টাকা ও বিহার শরিফে গা ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে নেয় তারা। বর্তমানে পুলিশ এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।