নিউজ ডেস্ক: বিপজ্জনক বাড়ির গেরোয় ফের রক্ত ঝরল তিলোত্তমায়। সোমবার কাঁকুড়গাছি অঞ্চলে একটি অতি পুরোনো জরাজীর্ণ বাড়ির কার্নিশের চাঙড় ভেঙে গুরুতর জখম হলেন এক পথচলতি বৃদ্ধা। জখম বৃদ্ধার নাম ছায়া বসাক (৭৯)। তাঁর মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের গাফিলতির অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? কাঁকুড়গাছি অঞ্চলের ৬০ নম্বর সতীন সেন সরণির ওই বাড়িটি দীর্ঘকাল ধরে পরিত্যক্ত এবং বিপজ্জনক। সোমবার সকালে ছায়াদেবী ওই বাড়ির সামনের ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই কার্নিশের একটি কংক্রিটের চাঙড় খসে তাঁর মাথায় পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। আতঙ্কিত বৃদ্ধা বলেন, ‘‘এক চোখে দেখতে পাই না, অন্য চোখটা চলে গেলে কী হত! এখন ঠিকমতো খেতেও পারছি না।’’
কাউন্সিলরের ক্ষোভ ও পুরসভার ভূমিকা: কলকাতা পুরসভার তরফে ওই বাড়িতে ‘বিপজ্জনক’ পোস্টার টাঙানো থাকলেও মালিকপক্ষ কোনও সংস্কার করেনি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু। তাঁর সাফ কথা, ‘‘অফিসাররা শুধু পোস্টার টাঙিয়েই খালাস। আজ ওই বৃদ্ধার প্রাণ গেলে কে দায়ী থাকত? শহরজুড়ে এই ধরনের বাড়ির মালিকদের ওপর আইনি চাপ বাড়ানো দরকার।’’
আজই ভাঙার কাজ শুরু: কাউন্সিলর জানিয়েছেন, বিপজ্জনক অংশটি যাতে আর কারও প্রাণহানি না ঘটায়, তাই আজ মঙ্গলবার থেকেই ওই বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হবে। পুরসভার তরফেও এলাকায় এই ধরনের আর কতগুলি বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে, তার তালিকা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।