নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া মিটেছে, কিন্তু শান্তি নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিএলও মণীন্দ্রনাথ দাসের জীবনে। অভিযোগ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্রমাগত খুনের হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি। সোমবার রাতে সেই আতঙ্কই বাস্তবে রূপ নিল। কাকদ্বীপের পশ্চিম গোবিন্দপুরের বাসিন্দা ওই বিএলও-র বাড়িতে গভীর রাতে চড়াও হল একদল দুষ্কৃতী। ইটের ঘায়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল বাড়ির দরজা। পরিবার নিয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
ফোন-হুমকি ও মাঝরাতে হামলা: মণীন্দ্রনাথ বাবু কাকদ্বীপের ৮৫ নম্বর বুথের বিএলও–র দায়িত্বে রয়েছেন। সোমবার রাতে তাঁর কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয়, “ভাইয়ের নাম কাটা গেল কেন? আপনি রেডি থাকুন। ব্যবস্থা করছি।” বিএলও-র দাবি, ফোন কাটার কিছু ক্ষণ পরেই দোতলার ঘরের ফাইবারের দরজা লক্ষ্য করে বড় বড় ইট ছোড়া হতে থাকে। ইটের আঘাতে দরজা ভেঙে যায়। মণীন্দ্রনাথের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারই এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে।
বিপুল সংখ্যক নাম বাদ : কাকদ্বীপের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট বুথের ১৬৩ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে এবং ২৭ জন ভোটারের নাম বর্তমানে বিবেচনাধীন। বিএলও মণীন্দ্রনাথ দাসের বক্তব্য, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পিছনে আমার কোনও ব্যক্তিগত ভূমিকা নেই। আমি শুধু নির্দেশ পালন করেছি। কিন্তু তবুও আমাকে এবং আমার পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিডিও এবং থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’’
আতঙ্কে জেলা প্রশাসন: মঙ্গলবার কাকদ্বীপের বিডিও এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বিএলও। তাঁর আক্ষেপ, ডিউটি করতে গিয়ে এখন রাতে ঘুমোতে পারছেন না। ভোটের আগে এক জন সরকারি কর্মীর ওপর এমন হামলা প্রশাসনের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাকদ্বীপ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই বিএলও-র বাড়ির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।