নিউজ ডেস্ক: ঝকঝকে নতুন ভবন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরিকাঠামোর কঙ্কালসার দশা কাটেনি নদিয়ার করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। গত কয়েক মাস ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। হাড়ের চোট বা গুরুতর চোট নিয়ে আসা রোগীদের বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে ছুটতে হচ্ছে। এর ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসা গরিব মানুষের পকেট টান পড়ছে।
সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের ভরসা যখন বিপাকে: করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। করিমপুর ২ ব্লকের নতিডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালেও এক্স-রে পরিষেবা না থাকায় সেখানকার রোগীরাও এখানেই ছুটে আসেন। কিন্তু করিমপুর হাসপাতালেও পরিষেবা অমিল। হাসপাতাল সূত্রের খবর, বহির্বিভাগে দিনে গড়ে ৪৫০ জন রোগী আসেন, যার মধ্যে অন্তত ২০ জন থাকেন হাড়ের সমস্যা নিয়ে। হাড় ভেঙে আসা রোগীদের ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে বাইরে নিয়ে যাওয়া এখন রোজকার ছবি।
দিনমজুরের আক্ষেপ ও রোগীর হয়রানি: সম্প্রতি দুর্ঘটনার জেরে পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তরুণ বিশ্বাস। চিকিৎসকরা এক্স-রে করার কথা বললেও মেশিন খারাপ থাকায় শেষমেশ তাঁকে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। একই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন দিনমজুর আনারুল শেখ। তাঁর আক্ষেপ, “গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসে চিকিৎসার টাকা বাঁচাবে বলে। বাইরে এক্স-রে করাতে গিয়ে যে টাকা খরচ হলো, তা দিয়ে ওষুধ কিনব ভেবেছিলাম। এখন সেটাও হলো না।”
টেকনিশিয়ান আছে, মেশিন নেই: হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দশ বছর আগে এখানে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান ছিল না। বর্তমানে বেতন দিয়ে একজন টেকনিশিয়ান রাখা হলেও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে মেশিনটি। ফলে পরিকাঠামোগত এই শূন্যতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মনে। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পরিষেবা বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, খুব দ্রুত নতুন মেশিন বসিয়ে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে। এখন দেখার, সেই ‘দ্রুত’ সময় কবে আসে।