নিউজ ডেস্ক: ভিআইপি রোড থেকে সল্টলেক ঢোকা বা বেরোনোর পথে যানজটের চিরচেনা সেই ছবিটা এবার বদলাতে চলেছে। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে কেষ্টপুর খালের ওপর চালু হলো দ্বিতীয় বেইলি ব্রিজ। নতুন এই সেতুর বিশেষত্ব হলো, এটি দিয়ে উভয়মুখী যান চলাচল চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন সল্টলেক থেকে গাড়ি সরাসরি ভিআইপি রোডে উঠতে পারছে, আবার ভিআইপি রোড থেকেও গাড়ি অনায়াসেই সল্টলেকে প্রবেশ করছে। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে সল্টলেকের একাধিক মোড়ে যানজটের চাপ অনেকটাই কমেছে।
সমস্যার স্থায়ী সমাধান: এতদিন লেকটাউন ট্রাফিক গার্ডের আগে একটি পুরনো বেইলি ব্রিজ থাকলেও সেটি ছিল ‘ওয়ান ওয়ে’। সেখান দিয়ে কেবল সল্টলেকে ঢোকা যেত, কিন্তু বেরোনোর কোনও উপায় ছিল না। সল্টলেক থেকে বেরোতে গেলে চালকদের অনেকটা পথ ঘুরে ১ নম্বর গেট বা পিএনবি মোড় ধরতে হতো। নতুন ব্রিজটি তৈরি হয়েছে সল্টলেক এএ ব্লকের খালপাড় ও ভিআইপি রোডের গোলাঘাটার সংযোগস্থলে। দু’দিকেই যাতায়াতের পথ খুলে যাওয়ায় সময় ও জ্বালানি— দুই-ই বাঁচবে যাত্রীদের।
যানজটমুক্ত সল্টলেক: বিধাননগর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন সেতুটি চালু হওয়ার আগে ৪ নম্বর ট্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকা এবং পিএনবি মোড়ে অফিস টাইমে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যেত। নতুন রুটটি সচল হওয়ায় সেই চাপ এখন অনেকটাই বন্টিত হয়ে গিয়েছে। গোলাঘাটার কাছে ট্রাফিক সিগন্যাল থাকায় সল্টলেক থেকে বেরিয়ে গাড়িগুলি ডানদিকে ঘুরে সরাসরি বিমানবন্দরের দিকে বা বাঁদিকে ঘুরে উল্টোডাঙার দিকে চলে যেতে পারছে।
খুশি আবাসিক থেকে পুলিশ: বিধাননগরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মিত কুমার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ার পর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও মসৃণ হয়েছে। সল্টলেকের আবাসিকদের পাশাপাশি অফিসযাত্রীরাও এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেতুর মুখে ২৪ ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তিলোত্তমার ট্রাফিক মানচিত্রে এই নয়া সংযোজন সল্টলেক ও ভিআইপি রোডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় স্বস্তি নিয়ে এল।