নিউজ ডেস্ক: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে থানায় আটকে রাখা এবং মোটা টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে। মুচিপাড়া থানার পুলিশের এই ‘দাদাগিরি’র ঘটনায় এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট । বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই ঘটনায় রাজ্যের কাছে হলফনামা তলব করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারির সংশ্লিষ্ট এলাকার এবং থানার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পুরনো বিবাদে ব্যবসায়ীকে হেনস্থা: ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। মুচিপাড়ার একটি জমির মালিকের সঙ্গে প্রোমোটারের বিবাদ থানা পর্যন্ত গড়ায়। ওই জমিতে তৈরি আবাসনটিতে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্যামল সাহা। শ্যামলবাবুর অভিযোগ, সেই পুরনো বিবাদের জেরে গত জানুয়ারি মাসে পুলিশ হঠাৎই তাঁকে তলব করে এবং তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়। অভিযোগ, এরপর ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ শ্যামলবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
থানায় আটকে রাখা ও তোলাবাজির অভিযোগ: হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী সাবির আহমেদ ও আকাশ গঙ্গোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সূর্যাস্তের পর আইন ভেঙে এক মহিলাকে থানায় নিয়ে গিয়ে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল আটকে রাখাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপ কল করে ওই দম্পতির ছেলেকে হুমকি দেয় এবং টাকা দাবি করে। শেষে ৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর তাঁদের মুক্তি মেলে।
পুলিশের পাল্টা দাবি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: যদিও পুলিশ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, জমি বিবাদের নথি জাল করে ফ্ল্যাট বিক্রির ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী জড়িত। কিন্তু শ্যামলবাবুর আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেন, ২০২৩-এর এফআইআরে তাঁদের মক্কেলের নামই নেই। তিনি সমস্ত আইনি নথি বজায় রেখেই ফ্ল্যাট কিনেছেন। বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, কোন আইন বলে একজন মহিলাকে সন্ধের পর তুলে এনে রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখা হলো? তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে রাজ্যকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।