নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করেছেন, শ্রীলঙ্কায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে এলটিটিই-র মুখোমুখি হয়েছেন— সেই শশীকান্ত হালদার এবার লড়াই জিতলেন নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে। বয়স ৮৫ বছর হলেও চুঁচুড়া কাপাসডাঙার এই প্রাক্তন সেনাকর্মীর জেদের কাছে হার মানল লাল ফিতে। একবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং দ্বিতীয়বার আবেদন বাতিল হওয়ার পরেও লড়াই চালিয়ে অবশেষে জয়ী হলেন তিনি। চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শশীকান্ত সাফ জানালেন, “যত দিন বাঁচব, ভোট দিতে চাই।”

বিস্মৃতির তালিকায় বীর সেনানি: ভারতীয় সেনার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দীর্ঘ চাকরি জীবন কাটিয়ে ১৯৯১ সালে আগ্রা থেকে অবসর নেন শশীকান্তবাবু। রাজীব গান্ধীর শান্তিসেনার প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এক সময় শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামেও পোস্টিং ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এই বৃদ্ধ। দেখেন, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম রহস্যজনকভাবে উধাও! অথচ ২০০২ সালের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।

আবেদন বাতিল ও প্রশাসনিক তৎপরতা: শশীকান্তবাবুর ছেলে বিনয় হালদার জানান, বিএলও যখন বাড়িতে ফর্ম দিতে আসেন, পরিবারের সকলের নাম থাকলেও তাঁর বাবাকে ‘ডিলিটেড ভোটার’ তকমা দিয়ে ফর্ম দেওয়া হয়নি। এরপর নতুন ভোটার হিসেবে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করলেও মোবাইলে মেসেজ আসে যে আবেদনটি ‘রিজেক্ট’ বা বাতিল করা হয়েছে। এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নথিপত্র পুনরায় পরীক্ষার পর অবশেষে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে দেখাচ্ছে যে আবেদনটি গৃহীত হয়েছে।

প্রশ্ন রয়েই গেল: বিনয় হালদার লড়াকু বাবার জন্য খুশি হলেও প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “বাবা আগে যে নথি দিয়েছিলেন, সেই নথির ভিত্তিতেই শেষমেশ নাম তোলা হলো। তাহলে আগে কেন বাতিল করা হয়েছিল, তার সদুত্তর মেলেনি। আমাদের মতো যারা ছুটোছুটি করতে পারবেন না, তাঁদের কী হবে?” বহু লড়াইয়ের পর ভোটার কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শশীকান্ত হালদার প্রমাণ করে দিলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে বয়সের চেয়েও বড় জেদ।

Share on Social Media