নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়েছে দেশের হেঁশেলে। রান্নার গ্যাসের জোগান কমতেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও দালালের পোয়াবারো। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে বেআইনিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ও কালোবাজারি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল পুলিশ। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর এলাকায় হানা দিয়ে ১৮টি ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করল বনগাঁ পুলিশ জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও গোপালনগর থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে বিশু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে।
গোপন ডেরায় পুলিশের হানা: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালনগর থানার চালকি এলাকায় নিজের বাড়িতেই অবৈধভাবে প্রচুর সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছিলেন বিশু শেখ। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে বুধবার অতর্কিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার হয় ১৮টি ভর্তি সিলিন্ডার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বর্তমান সংকটের আবহে সাধারণ মানুষের আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে আকাশছোঁয়া দামে এই সিলিন্ডারগুলি বাজারে বিক্রির ছক কষেছিল ধৃত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সক্রিয়তা: রাজ্যের বটলিং প্লান্টের গ্যাস যাতে বাইরে না যায় এবং জোগান যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাজার এবং ডিলারদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কৃত্রিম অভাব তৈরি করতে না পারে, তার জন্য এই ধরণের অভিযান লাগাতার চলবে।
জেলায় জেলায় দীর্ঘ লাইন: গোপালনগরে সাফল্যের মুখ দেখলেও, উত্তর ২৪ পরগনার অন্য প্রান্তে ভোগান্তি মেটেনি। বনগাঁ, বসিরহাট থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাস বুকিং নিয়ে হয়রানি অব্যাহত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্যাস ডিলারের অফিসের সামনে মানুষের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গিয়েছে। গ্যাসের অভাবেই জেলার বহু ছোট রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে তাদের খাবারের মেনু ছোট করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।