নিউজ ডেস্ক: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র (DA) দাবিতে ফের একবার উত্তপ্ত হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার, ১৩ মার্চ রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ তিনটি বড় সংগঠন। তবে ধর্মঘটের মোকাবিলায় আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুক্রবার কোনও সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বেতন কাটা হবে এবং চাকরিকাল থেকে একদিন বাদ যাবে।
ত্রিমুখী সংগঠনের বনধের ডাক: সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, সরকারি কর্মচারী পরিষদ এবং যৌথ মঞ্চ— এই তিন সংগঠন একযোগে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি দপ্তর, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালনের ডাক দিয়েছে। ডিএ-র পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক দাবিপত্র পেশ করা হয়েছে এই আন্দোলনে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ এবং পরিবহণের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিকে অবশ্য এই বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবুও প্রশাসনের চিন্তা বাড়িয়ে বহু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী সংগঠন এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছে।
নবান্নের কড়া ফতোয়া: নবান্ন তার বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, শুক্রবার কোনও ক্যাজুয়াল লিভ (CL) বা ‘হাফ ডে’-র ছুটি গ্রাহ্য হবে না। কেউ যদি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অফিসে না আসেন, তবে সেটিকে ‘নো-স্যালারি ডে’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, ওই দিনের জন্য কোনও বেতন পাবেন না কর্মীরা। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও কর্মী আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি থাকেন, পরিবারে কোনও বড় অঘটন ঘটে, মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) বা চাইল্ড কেয়ার লিভ-এ থাকেন, অথবা আগে থেকে মঞ্জুর হওয়া ইএল (Earned Leave) নিয়ে থাকেন, তবে তাঁদের ওপর এই কোপ পড়বে না।
অনিশ্চয়তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নবান্ন সব স্কুল-কলেজ খোলা রাখার নির্দেশ দিলেও, শিক্ষক সংগঠনের একাংশ ধর্মঘটে অনড় থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। একদিকে আন্দোলনকারীদের জেদ এবং অন্যদিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শুক্রবারের সরকারি পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক থাকে, এখন সেটাই দেখার। নবান্ন থেকে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও বিভাগীয় প্রধানদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।