নিউজ ডেস্ক: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মেগা সভায় এবার বড় চমক দিতে চলেছে বিজেপি। অযোধ্যার রামমন্দির নয়, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সভামঞ্চ তৈরি হচ্ছে খাস কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের আদলে। স্রেফ ধর্মীয় আবেগ নয়, বঙ্গ বিজেপির এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর রাজনৈতিক কৌশল। তৃণমূলের ‘বাঙালিবিরোধী’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বিজেপি যে আদতে বাঙালির ঘরের দল, সেই বার্তাই এখন ব্রিগেডের প্রধান ‘থিম’।
মঞ্চসজ্জায় শিল্পের ছোঁয়া: মঞ্চের দেওয়ালে ফুটে উঠছে বাংলার ঐতিহ্যের চালচিত্র। কোচবিহারের রাজবাড়ি থেকে বাঁকুড়ার টেরাকোটার ঘোড়া, আর উত্তরবঙ্গের সবুজ জঙ্গল— সব মিলিয়ে এক টুকরো বাংলাকে ধরা হচ্ছে ব্রিগেডের ক্যানভাসে। জানা গিয়েছে, বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১২ জন চিত্রশিল্পী দিনরাত এক করে এই ছবিগুলি এঁকেছেন। এক বিজেপি পদাধিকারীর কথায়, “তৃণমূল বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে। আমরা সেই হারানো গরিমা ফিরিয়ে দিতে চাই। বিজেপিই সত্যিকারের বাঙালি-দরদি পার্টি।”
‘রাম’ থেকে ‘কালী’তে বিবর্তন: ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমা এবং বাঙালির আবেগ বিজেপির জয়রথ থামিয়ে দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতায় শিক্ষা নিয়ে এবার নিজেদের দলীয় সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনছে পদ্ম শিবির। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে অভ্যস্ত কেন্দ্রীয় নেতারা ইদানীং বাংলায় এসে সগর্বে দিচ্ছেন ‘জয় মা কালী’ স্লোগান। এমনকি সম্প্রতি বঙ্গবাসীর উদ্দেশে লেখা প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠিতেও ‘জয় শ্রীরাম’-এর বদলে প্রাধান্য পেয়েছে মা কালীর জয়ধ্বনি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আমলেও দলের কর্মসূচিতে বারবার কালী ঠাকুরের ছবি রেখে বাঙালি আবেগকে ছুঁতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
টার্গেট তৃণমূলের ‘বাঙালি’ তাস: বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূল যখন ভোটপ্রচারের ময়দানে ঝাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মোদীর এই সভা থেকে পাল্টা জবাব দিতে মরিয়া বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, ব্রিগেডে দক্ষিণেশ্বরের আদলে মঞ্চ তৈরি করে বিজেপি আসলে প্রমাণ করতে চাইছে যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দল বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তৃণমূলের ‘আঞ্চলিক বাঙালি’ তকমা ঘোচাতে শনিবারের ব্রিগেড থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেটাই দেখার।