নিউজ ডেস্ক: ডুয়ার্সের চা বাগানে ফের এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। বকেয়া মজুরি না মেলায় সংসার চালাতে বিকল্প কাজের সন্ধানে যাওয়ার পথে আলিপুরদুয়ারে উল্টে গেল শ্রমিক বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ বীরপাড়া-ফালাকাটা ১৭ডি জাতীয় সড়কের ওপর দলগাঁও চা বাগানের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ১৮ জন চা শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওভারটেক করতে গিয়েই বিপর্যয়: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত শ্রমিকরা সকলেই বীরপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা। এদিন সকালে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাঁরা ফালাকাটার দিকে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দলগাঁও চা বাগানের কাছে সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় পিকআপ ভ্যানটি। মুহূর্তের মধ্যে সেটি রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। বর্তমানে জখম শ্রমিকরা বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংসার চালাতে ভিন কাজের খোঁজে: এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলির করুণ চিত্র। অভিযোগ, বীরপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরি পাচ্ছেন না। বাড়িতে টান পড়েছে অন্নের। তাই বাধ্য হয়েই বাগানের কাজ ছেড়ে আলু চাষের মরসুমে ফালাকাটায় খেতমজুর হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে আসছে কালচিনির ভার্নাবাড়ি বাগানের স্মৃতি। সেখানেও বাগান বন্ধ থাকায় অন্য জায়গায় কাজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় চার মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
শ্রমিক মহলে ক্ষোভ: বারবার কেন চা শ্রমিকদের এ ভাবে পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য জায়গায় কাজের সন্ধানে যেতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনগুলি। বাগানগুলোতে মজুরি সমস্যা না মিটলে এই ধরণের অনিশ্চিত যাত্রা ও দুর্ঘটনা রোখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বীরপাড়া চা বাগান এলাকায় এখন শুধুই বিষাদের ছায়া। পুলিশ ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছে।