নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যের বাসিন্দার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে কলকাতায় বসে লক্ষ লক্ষ টাকার শপিং! অবশেষে গুজরাত পুলিশের জালে ধরা পড়ল কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক সাইবার জালিয়াত। ধৃতের নাম অমিত মণ্ডল। অভিযোগ, গুজরাতের এক ব্যবসায়ীর ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ছ’লক্ষ টাকার আইফোন সহ বিভিন্ন দামী ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিনেছিল সে। এই ঘটনার নেপথ্যে একটি বড়সড় আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধ চক্রের যোগ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ব্যাংকের ‘অফার’-এর আড়ালে ফাঁদ: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে গুজরাতের ওই ব্যবসায়ীর কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একটি নামী ব্যাংকের কর্মী পরিচয় দিয়ে জানায়, তাঁর ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট রেকর্ড খুব ভালো, তাই তাঁর জন্য বিশেষ অফার রয়েছে। নতুন কার্ড নিলে লেনদেনের সীমা বা লিমিট অনেক বাড়বে এবং বিদেশে ভ্রমণের সুযোগও মিলবে। ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করার পর, জালিয়াতরা পুরনো কার্ডের নম্বর, সিভিভি (CVV) এবং পাসওয়ার্ড চেয়ে নেয়। সরল বিশ্বাসে সব তথ্য দিয়ে বসেন ওই ব্যবসায়ী।
কলকাতায় ডেলিভারি ও গ্রেপ্তার: এর কয়েকদিন পরেই ওই ব্যবসায়ী ফোনে মেসেজ পান, তাঁর কার্ড ব্যবহার করে ছ’লক্ষ টাকার কেনাকাটা করা হয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে গুজরাত পুলিশ জানতে পারে, যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কেনাকাটা করা হয়েছে, সেটি কলকাতার। জিনিসপত্র ডেলিভারিও হয়েছে কলকাতায়। সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে মহারাষ্ট্র থেকে এক জালিয়াতকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করেই কলকাতার রিজেন্ট পার্কের অমিত মণ্ডলের নাম সামনে আসে। বুধবার কলকাতায় এসে অভিযান চালিয়ে অমিতকে গ্রেপ্তার করে গুজরাত পুলিশ।
কম দামে বিক্রি ও ভুয়ো ইনভয়েস: ধৃত অমিত মণ্ডলকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতে আসার পর সে আইফোন সহ দামী মোবাইল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিনত। সেগুলি আবার সে বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিত। ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুয়ো ইনভয়েস বা বিলও তৈরি করত সে। জিনিস বুকিংয়ের সময় সে নিজের বাবার ফোন নম্বর ব্যবহার করত বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রে কলকাতা ও ভিন রাজ্যের আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান জানান, অভিযুক্ত যে এই জালিয়াতিতে সরাসরি জড়িত, তার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।