নিউজ ডেস্ক: কেউ ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর শিকার হয়ে ঘরে বন্দি ছিলেন আতঙ্কে, কেউ আবার শেষ বয়সের সম্বল শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে খুইয়েছিলেন সর্বস্ব। সাইবার দস্যুদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া সেই সব মানুষের মুখে হাসি ফোটাল বিধাননগর পুলিশ। বৃহস্পতিবার বাগুইআটি থানার পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন প্রতারিত ব্যক্তির হাতে উদ্ধার হওয়া ২ কোটি ২ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই সাফল্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া টাকার পাহাড়: বিধাননগর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাসে বাগুইআটি থানা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং ৫০টির বেশি মামলার সমাধান করে। ডিসি এয়ারপোর্ট ঐশ্বর্য সাগর এবং বাগুইআটি থানার আইসি অমিতকুমার মিত্রের উপস্থিতিতে এদিন ভিআইপি রোডের ধারের একটি প্রেক্ষাগৃহে চেক বিলি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকদের ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
প্রতারণার বিচিত্র ছক ও সাফল্য: এদিন টাকা ফেরত পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন এক বৃদ্ধা, যিনি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে ৪ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন। আবার এক বৃদ্ধ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের টোপে পড়ে হারিয়েছিলেন ৯ লক্ষ টাকা। এমনকি একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও ৩৩ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বাসের মধ্যে মোবাইল চুরি হওয়ার পর সেই ফোন ব্যবহার করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার শিকার এক তরুণীও এদিন তাঁর ১ লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছেন।
সতর্কতাই একমাত্র কবচ: টাকা ফেরানোর পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সচেতনতার বার্তা দেন। ডিসি ঐশ্বর্য সাগর জানান, “তিন মাসে সাড়ে ৩ কোটি টাকা খোয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ২ কোটির বেশি উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াও চলছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বা বিনিয়োগ প্রতারণার ক্ষেত্রে অনেক সময় গ্রাহকদের অসতর্কতা কাজ করে। তাই প্রতি মুহূর্তে সাবধান থাকতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং এই ধরণের অভিযান লাগাতার চলবে।